ফিসফাস

অনেকদিন বাদে স্যান্ডি আর আমি অনস্ক্রিন একসঙ্গে। স্যান্ডি অ্যাঙ্কর, আমি দাঁড়াব নিউজরুম লাইভে। স্বাভাবিক ভাবেই অফিসের সব থেকে ফিচেল ছেলে গ্রাফিক্সের সুজয় যথারীতি নানান সরস মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছে। বাকিরা হেসে কুটিপাটি। আসলে স্যান্ডির আর আমার বিয়ে ঠিক হওয়া ইস্তক অফিসে সরস ফিসফাস। যাঁরা স্যান্ডির প্রথম গোয়েন্দাগিরির খবর রাখেন না তাঁদের জন্যে সংক্ষেপে একটু পরিচয় দিয়ে নিই। স্যান্ডি, স্যন্দিকা মুখার্জি চ্যানেল ফাইভ-এর সিনিয়ার রিপোর্টার তথা অ্যাঙ্করিং বিভাগের এইচ-ও-ডি। আমি, সাক্ষর চট্টোপাধ্যায় চিফ রিপোর্টার।

   হঠাত্ কানে লাগানো টকব্যাকে পিসিআর (প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুম) থেকে প্রোডিউসার মিনুর (মৃন্ময়) নির্দেশ ভেসে আসে।

   - সাক্ষরদা, একটু অডিও চেক দাও।

   - হ্যালো চেক, ওয়ান, টু, থ্রি…

   - ওকে, ওকে। স্ট্যান্ড-বাই। থার্টি সেকেন্ডস টু গো।

   মিনু এবার অ্যাঙ্করকে কাউন্ট ডাউন দিতে থাকে। আমি আড়চোখে ক্যামেরাপার্সন সোমেনকে জিগ্যেশ করে নিই চুল টুল সব ঠিক আছে কিনা। ও ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেয়। কানে ভেসে আসে পিসিআর আর স্টুডিওর কথা।

   - স্যান্ডি রেডি। থ্রি, টু, ওয়ান, কিউ।

   - নমস্কার, ফিরে এলাম বিরতির পর। আপানারা দেখছেন চ্যানেল ফাইভ, আমি স্যন্দিকা। চোখ রাখব এই মুহুর্তের সব থেকে বড় খবরে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আদালত চত্বর থেকে উধাও কুখ্যাত অপরাধী ছোট খোকা ওরফে দিলীপ পাত্র।….

   স্যান্ডির ভয়েসের সঙ্গে এখন আদালত চত্বরের ফুটেজ (ছবি) যাচ্ছে। এরপর ও আমাকে নেবে। কিভাবে দিনে দুপুরে পুলিশের খপ্পর থেকে একজন দাগী আসামি, যার নামে সাতটা খুনের কেস, সে পালিয়ে যেতে পারে! আমাকে পুলিশের অকর্মণ্যতা নিয়ে খানিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। আসলে আমাদের  এডিটোরিয়াল পলিসি-ই হল অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট…. 

   প্রায় মিনিট সাতেকের লাইভের পর মুক্তি পেলাম। বুলেটিন শেষে স্যান্ডি বেরোনো মাত্র সুজয়দের আর এক দফা আওয়াজ।

   - সাক্ষরদা, তোমার তো কথা শেষ-ই হচ্ছিল না। অফিসের বাইরেও বলবে আবার লাইভেও বলবে!

   - আমি তো পিসিআর থেকে বার বার স্যান্ডিদি-কে বলছি এবার সাক্ষরদাকে ছাড়ো। কে শোনে কার কথা। প্রশ্ন আর শেষ হয়না।

   এবারে আসরে অবতীর্ণ হয় মৃন্ময়। তবে স্যান্ডিও প্রতিবাদ করতে ছাড়ে না।

   - একদম মিথ্যে কথা বলবি না মিনু। তোরা জানিস, সাক্ষরকে ছেড়ে যেই অন্য খবরে ঢুকছি তখন মিনুই বলেছে ‘আর একটু রাখতে পারতে স্যান্ডিদি’।

   স্যান্ডির বলার ধরনে সবাই হেসে ওঠে। হঠাত্‌খুব সিরিয়াস মুখ করে ডেস্কের গিরি উঠে আসে জটলায়।

   - আমি বলছিলাম কী, আমাদের স্যান্ডি তো এখন গোয়েন্দা। তো ছোট খোকা-কে ট্রেস করার দায়িত্বটা তুই-ই নে।

   সবাই সমস্বরে হই হই করে সমর্থন জানায়।

   - তোরা কি আমার চাকরিটা খাবি? লেট মি লিভ ইন পিস, ইয়ার?

 

   তবে ঘটনা যে এভাবে মোড় নেবে ভাবা যায়নি। দিন দুয়েক কেটে গিয়েছে। ছোট খোকা এখনও বেপাত্তা। কাগজে, কাগজে আর চ্যানেলে, চ্যানেলে প্রশাসনের সমালোচনায় কান পাতা দায়। আমরাও তার ব্যাতিক্রম নই। বোধহয় একটু বেশিই। হঠাত্‌ স্যান্ডি আর আমাদের আর এক অ্যাঙ্কর অনসূয়ার আগমন আমার ডেস্কের সামনে।

   - সাক্ষর, একবার ব্যালকনিতে চলতো।

   ফিসফিসিয়ে বলে স্যান্ডি। চোখমুখ সিরিয়াস। আমিও ভাবছিলাম একটা সিগারেট ব্রেক নেবো। তিনজনে বারান্দায় আসি। কফি ভেন্ডিং মেশিন থেকে পেপার কাপে তিন কাপ কফি হাতে নিয়ে।

   - জানিস, অনসূয়া একটা ফানি কথা বলছে!

   স্যান্ডির গলার বিস্ময়টা গোপন থাকেনা।

   - কী হয়েছে?

   - অ্যাই অনসূয়া, তুই বল, ইন ডিটেইলস।

   - পরশু অফিস থেকে ফ্ল্যাটে ফিরে শুনলাম আমাদের ঠিক উল্টোদিকের ফ্ল্যাট-টায় নাকি নতুন ভাড়াটে এসেছে। একজন বৃদ্ধা আর তার দেখভাল করার জন্য একটি অল্পবয়সী ছেলে…

   - আর অমনি তুই ধরে নিয়েছিস ছদ্মবেশে ছোট খোকা ওখানে উঠেছে। তোরা পারিসও বটে। স্যান্ডি তোর কাছ থেকে এই বালখিল্যতা আশা করিনি।

   অনসূয়াকে থামিয়ে দিয়েই আমি বিরক্তি প্রকাশ করি। এবার বিরক্ত হয় স্যান্ডি।

   - হোয়াটস ইয়োর প্রবলেম সাক্ষর? লেট হার ফিনিশ ফার্স্ট। অনসূয়া বল।

   - সাক্ষরদা, পরেরটা শোনো আগে। গতকাল আমি বেরোচ্ছি, সিঁড়ির মুখে সেই অল্পবয়সী ছেলেটির মুখোমুখি। হাতে অনেক জিনিষপত্র। ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিষ সব। কিন্তু তারমধ্যে একটি জিনিষ দেখে খটকা লাগে। কিন্ত পাত্তা দিই না। তারপর কাল রাতে ফ্ল্যাটে ঢোকার সময় মহিলার মুখোমুখি হতেই খটকাটা বাড়ে। নিজের ফ্ল্যাটে ঢোকার পর সকাল থেকে লেগে থাকা খটকাটা অস্বস্তিতে বদলে যায়। আজ এসেই স্যান্ডিদিকে সব বলি।

   - আরে খটকাটা কী বলবিতো?

   - ছেলেটি অন্যান্য জিনিষের সঙ্গে আর যা কিনে এনেছিল সেটি একটি বড় সাইজের স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্যাকেট।

   এবারে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ি আমি।

   - বারে গোয়েন্দাদের দল। সত্যি তোরা পারিসও বটে। আরে একজন মহিলা থাকলে স্যানিটারি ন্যাপকিন আসবে না তো কি আফ্টার শেভ লোশন আসবে?

   আবার হাসতে থাকি। অনসূয়া বিব্রত। স্যান্ডি রীতিমতন গম্ভীর। ওর মুখ দেখে চুপ করে যাই।

   - এতো ইমপেশেন্ট কেন তুই? মহিলাদের ব্যাপরটা উই লেডিজ নো বেটার দ্যান ইউ। অনসূয়া ভদ্রমহিলার যে ডেস্ক্রিপশন দিচ্ছে তাতে তাঁর বয়স বিটউইন সিক্সটি ফাইভ টু সেভেন্টি। নাও সাক্ষর হেয়ার ইউ আর। ডু ইউ রিয়েলি থিঙ্ক ওই বয়সের একজনের সত্যিই স্যানিটারি ন্যাপকিন-এর প্রয়োজন?

   এবার আমার চুপ করে যাওয়ার পালা। তাইতো!

   - তাছাড়া অ্যাকর্ডিং টু হার, শি ওয়াজ ওভার মেড-আপ। রাতে একজন বয়স্ক লেডি কেন চড়া মেক-আপে থাকবেন?

   - অর্থাত্‌ তোরা শ্যিওর, উনিই ছোট খোকা।

   - তোর এই সাডেন ডিসিশন মেকিং-গুলো বন্ধ কর প্লিজ। ছোট খোকার প্রশ্নটা এখানে ইমম্যাটেরিয়াল। দ্য কোয়েশ্চেন ইজ হু ইজ শি?

   - উনি যা দেখাচ্ছেন আসলে উনি তা নন এটাই বলতে চাইছো তো স্যান্ডিদি?

   - অ্যাবসলিউটলি।

   - প্রশ্ন হচ্ছে একজন অল্পবয়সী মহিলা খামোখা বয়স্কা সাজবেন কেন?

   - অফকোর্স দ্যাট ইজ আ কোয়েশ্চেন। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে অ্যাকচুয়ালি শি ইজ হি।

   - মানে তুমি বলতে চাইছো ন্যাপকিন-এর ব্যাপারটা আইওয়াশ!

   অনসূয়ার সংশয়ে ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায় স্যান্ডি। এবার আমারও মাথাটা ঘেঁটে যায়। হঠাত্ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভঙ্গীতে স্যান্ডি অনসূয়াকে তাড়া লাগায়।

   - তোর বুলেটিন আছে না? স্টিল ইউ আর স্ট্যান্ডিং হেয়ার। যা, যা। কুইক। আজ রাতে তোর ফ্ল্যাটে যদি আমি থাকি, এনি প্রবলেম?

   - ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম স্যান্ডিদি। আমি মেক-আপ রুমে যাচ্ছি।

   অনসূয়ার পিছন পিছন স্যান্ডিও চলে যায়। আমি কমপ্লিট ঘেঁটে গেছি। 

 

   কী করে জানি না অফিসের অনেকেই টের পেয়েছে স্যান্ডি অনসূয়ার ফ্ল্যাটে গিয়েছে, এবং সেখানে রহস্য আছে। তাই যাদের ডে শিফ্টে ডিউটি তারাও সব আগে ভাগে হাজির। খালি স্যান্ডিদের আসার অপেক্ষা। স্যান্ডি, অনসূয়া দুজনেরই বারোটার শিফ্ট। তবে দুজনে ঢুকলো এগারোটা নাগাদ। নেক্সট উইকের অ্যাঙ্কর রোস্টার তৈরি করতে হবে বলে স্যান্ডি মেক-আপ রুমে চলে গেল। আমি বারোটার বুলেটিনের আগে আর কী নতুন খবর পাওয়া যায় জানতে রিপোর্টাদের ফোন করছিলাম। এদিকে অতি উত্‌সাহে বাকিরা ঘিরে ধরেছে অনসূয়াকে। সেও দেখলাম বেশ রসিয়ে স্যান্ডির গোয়েন্দাগিরির গল্প বলছে। তবে স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রসঙ্গে একটু বিব্রত মনে হল। আসলে শ্রোতাদের বেশির ভাগই ছেলে। তবে সিনিয়ার কপি এডিটর জয়িতা ব্যাপারটাকে সুন্দর ম্যানেজ করল। মোদ্দা যেটা জানা গেল, রাতে স্যান্ডি কায়দা করে নজর রেখেছিল কিন্তু মহিলাকে দেখতে পায়নি। বরং ছোকরা সাহায্যকারীকে বার কয়েক দেখেছে। আর আজ ভোরে উঠে সুইপার আসার আগে উল্টোদিকের ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রাখা ট্র্যাশ ব্যাগটা ঘেঁটে দেখেছে। তারপর থেকেই বেজায় গম্ভীর। এমনকি অনসূয়ার সঙ্গেও বিশেষ কথা বলেনি।

   হঠাত আমার সেলফোনটা বেজে উঠল। আমাদের ক্রাইম বিট-এর রিপোর্টার, মোনালিসা।

   - হ্যাঁ, মোনা বল।

   - সাক্ষরদা একটা ইন্টারেস্টিং খবর আছে।

   - বলে ফেল।

   - এক বৃদ্ধ তিনদিন হল নিখোঁজ।

   - রোজ দু-চারজন পালায়, মেন্টাল কেস। ছাড়তো।

   - এক মিনিট সাক্ষরদা। বিখ্যাত মিত্র টেক্সটাইলের মালিক রাঘবেন্দ্র মিত্র হচ্ছেন সেই বৃদ্ধ।

   - তাই নাকি? ইমিডিয়েট প্রসিড কর। তা তিনদিন পরে কেন?

   - আগেই লোক জানাজানি করতে চায়নি। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে না পেয়ে আজ মিসিং ডায়রি করিয়েছে বাড়ির লোক। কারণ আরও আছে। অ্যাকর্ডিং টু পুলিশ, রাঘবেন্দ্রবাবুর ছেলেদের সন্দেহ, সার্জারি করানোর ভয়ে উনি বেপাত্তা। ওনার নাকি শল্যচিকিত্‌সায় প্রবল আতঙ্ক।

   - হা, হা, হা। বলিস কিরে? ফানি নিউজ। বেশ রসিয়ে কর। বলে দিচ্ছি পিসিআর-এ। তোকে ফোনে ধরে নেবে।

   ফোন রেখে গিরিকে ডাকি। ব্যাপারটা ব্রিফ করে দু-লাইনের অ্যাঙ্কর লিঙ্ক লিখে দিতে বলি। ততক্ষণে রহস্য নিয়ে আগ্রহ প্রশমিত। যে যার কাজে মন দিয়েছে। এরপর স্যান্ডিকে আসতে দেখা যায়। যথারীতি গম্ভীর। জয়িতা চেপে ধরে। ট্র্যাশ ব্যাগের ব্যাপারটা জানতে চায়। স্যান্ডির এক কথার উত্তরে সব আগ্রহ চুপসে যায়।

   - ট্র্যাশ ব্যাগে জেনুইন ইউজড ন্যাপকিন ছিল।

   যাঃ বাবা। খোদা পাহাড়, নিকলা চুহা। তার মানে কোনো অল্পবয়সী মহিলা। জয়িতা বিজ্ঞের মতন নিদান দেয়..

   - দ্যাখ বড়লোক বাপের বেটি। হয়তো নিজের পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজী নয়। তাই গা ঢাকা দিয়েছে।

   সবাই জয়িতার বলার ধরনে হেসে ফেলে। এরপর গবেষণা শুরু হয় কখন কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে গা ঢাকা দিতে হয়। কেউ বলে লোকে ক্রাইম করলে গা ঢাকা দেয়, কারো মত, ক্রাইম করার আগেও গা ঢাকা দিতে পারে। স্পোর্টস-এর অর্ক-র মত দলবদলের মরশুমে দুই বড় ক্লাবের প্লেয়ারদের গা ঢাকা দেওয়ার চল আছে। স্যান্ডির দেখলাম এসব ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ নেই। সে গম্ভীর মুখে নিজের ডেস্কে বসে নেটে কি সব সার্চ করছে। দিন দুয়েক পরে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন কভার করতে যাবে। তারই প্রস্তুতি বোধহয়।

  

   রাত আটটায় স্যান্ডির ডিউটি অফ হবে। একসঙ্গেই ফিরব। ওর লাস্ট বুলেটিন শেষ হয়েছে। মেক-আপ তুলছে। বেরিয়েই আমাকে অবাক করে দিল।

   - সাক্ষর তুই বাড়ি যা। আমি আমার বাড়িতেও বলে দিয়েছি, যে আজও ফিরব না। আজও অনসূয়ার বাড়িতেই থাকব। চল অনসূয়া।

   দুজনে ঝড়ের মতন বেরিয়ে যায়। আমি হতবাক। কী আর করি। এত তাড়াতাড়ি ফিরে লাভ নেই। গিরিরও কাজ শেষ। ঠিক করলাম দুজনে মিলে একটু প্রেস ক্লাবে যাই। অনেকদিন যাওয়া হয়নি।

 

    ভোর ছটায় ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙল। আসলে কাল ক্লাবে একটু বেশি পান করা হয়ে গিয়েছিল। নাহলে এতক্ষণে উঠে পড়ি। অফিস থেকে ফোন। অ্যাসাইনমেন্টের শৌনক। খুব উত্তেজিত।

   - সাক্ষরদা, হট নিউজ। শিল্পপতি রাঘবেন্দ্র মিত্রকে পাওয়া গ্যাছে। ব্রেকিং দিয়ে দিয়েছি।

   - নাইট রিপোর্টার স্পটে গিয়েছে?

   - দরকার হয়নি। খালি ক্যামেরাম্যান পাঠিয়েছি।

   - সেকি? কেন?। আজকাল তোরাই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিস?। তাহলে আর আমায় ফোন করলি কেন?

   - আরে কথাটাতো শোনো। তারপর রাগ কোরো। রাঘবেন্দ্র মিত্রকে খুঁজে বের করেছে স্যান্ডিদি। অনসূয়ার ফ্ল্যাটের উল্টোদিক থেকে। ওখান থেকেই লাইভ…..

    শৌনকের কথাগুলো সব ঝাপসা হয়ে যায়। মানেটা কী? কিচ্ছু মাথায় ঢোকে না। সব কেমন গুলিয়ে যায়।

 

   অফিস রীতিমতন সরগরম। খোদ নিউজ এডিটর ফোনে স্যান্ডিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সঙ্গে দুটো ঘোষণা। এক, আজ লাঞ্চে সবার বিরিয়ানি। স্পনসর উনি। আর উনি অফিস ঢোকার আগে স্যান্ডি যেন মুখ না খোলে। বুঝলাম ওনার কোনো প্রিয়পাত্র রহস্যের গোড়ার ঘটনা সবিস্তারে ওনাকে শুনিয়েছে। তাই এতো আগ্রহ।

   বেলা বারোটায় নিউজ এডিটর বিশ্বজিত‌দা ঢুকলেন। খোঁজ নিলেন সব বুলেটিন ঠিকঠাক রেডি কিনা। আমরা রাঘবেন্দ্র মিত্রকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে শুধু এটুকুই জানিয়েছি। বাকি চ্যানেলগুলোও তাই। মিত্র পরিবারের সনির্বন্ধ অনুরোধে ওনার মহিলা সেজে থাকার খবরটা চেপে যাওয়া হয়েছে। না হলে এই বয়সে ওনাকে খুবই এমব্যারাসড হতে হবে।

 

   স্যান্ডির ডাক পড়ল বিশ্বজিতদার ঘরে। পরমুহুর্তে দুজনেই বেরিয়ে এলো।

   - আমি জানি সবাই খুব কৌতুহলি। তাই নিউজরুমে স্যান্ডি বলবে। যারা পিসিআর, এমসিআর-এ আছে তাদের তোমরা বলে দিও। নাও স্যান্ডি শুরু করো। মেক ইট কুইক।

   কোনো ভনিতা না করেই স্যান্ডি শুরু করল।

   - অনসূয়ার কাছ থেকে শুনেই প্রথম খটকা লাগে। সত্যি বলতে কি ছোট খোকার সম্ভাবনাটাও মাথায় ছিল। তারপর প্রথম রাতে অনসূয়ার ফ্ল্যাটে থেকে রহস্য আরও গুলিয়ে গেল। কোনো একজন মহিলাই গা ঢাকা দিয়েছেন। কিন্তু কে এবং কেন? রাতের বুলেটিনে রাঘবেন্দ্র মিত্র অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে খবরটা পড়ার পরই হঠাত্‌ একটা সম্ভাবনা উঁকি দিল। তাই আবার গেলাম ওর ফ্ল্যাটে। যে কাজটা প্রথম রাতেই করা উচিত ছিল সেই ভুলটা আর না করে সোজা গিয়ে আবাসনের সিকিউরিটি অফিসে ঢুকলাম। টিভিতে মুখ দেখতে পাওয়ার কিছু বিশেষ সুবিধে আছে। যা জানতে চাইছিলাম সেটা সহজেই জানা হয়ে গেল। ব্যস রহস্য ফাঁস।

   - আরে সেটা কী বলবে তো?

   বিশ্বজিতদা অধৈর্য। আমাদের সকলের অবস্থাও তথৈবচ।

   - ফ্ল্যাটের মালিক রাঘবেন্দ্র মিত্র-র নাতি। যে এখন পড়াশোনার জন্য বিদেশে। তাই ফার্নিশড ফ্ল্যাট খালিই পড়েছিল। এরপর সোজা ফ্ল্যাটে হানা দিলাম। ঢুকতে একটু বেগ পেতে হলেও, বৃদ্ধই সহযোগিতা করলেন। উনি তখন বসে আমাদেরই নিউজ দেখছিলেন। সব স্বীকার করলেন। খালি অনুরোধ করলেন সকালের আগে যেন খবরটা আমি না জানাই।

   অফিসের ফিসফাস-টা গুঞ্জনে পরিণত হলো। অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন। কিন্ত বিশ্বজিতদার সামনে কেউ জিগ্যেশ করতে ভরসা পাচ্ছে না। মুখ দেখে বুঝলাম বিশ্বজিতদারও একই অবস্থা। শেষে সেই জয়িতাই হল উদ্ধারকর্ত্রী।

   - কিন্তু স্যান্ডি ওই ইউজড্ ন্যাপকিন…

   জোরে হেসে উঠল স্যান্ডি।

   - বললাম না খবরটা পড়েই প্রথম সম্ভাবনাটা আমার মাথায় আসে। সার্জারির ভয়ে পালিয়েছেন রাঘবেন্দ্রবাবু। কিন্তু কী সার্জারি? হঠাত্‌ বিদ্যুত্‌ চমকের মতন মাথায় এলো ওনার পাইলস্-এর সমস্যা নেই তো? একমাত্র তাহলেই ফিসফাস কোম্পানির ন্যাপকিন কেনা এবং ইউজ্ড হিসেবে ফেলে দেওয়াটা জাস্টিফায়েড হয়।

   গোটা নিউজরুম অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। বিশ্বজিতদাও বাদ নেই। তখনই সুজয়ের মন্তব্য।

   - তাহলে এবার বিজ্ঞাপণে লেখাই যাবে ওয়ান মিলিয়ন স্যাটিসফায়েড লেডিজ অ্যান্ড ওয়ান স্যাটিসফায়েড জেন্টলম্যান…

   হাসির কলরোলে চাপা পড়ে গেল বাকি সব।

 

--------------------------------------------------------------------------------

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

Featured Posts

सैलाब

November 12, 2018

1/5
Please reload

Recent Posts

September 2, 2020

May 6, 2020

November 12, 2018

November 9, 2018

October 26, 2018

October 26, 2018

August 22, 2018

Please reload

Archive
Please reload

Search By Tags